Home কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জে পানি নিচে আরও ১ হাজার হেক্টর ধান

কিশোরগঞ্জে পানি নিচে আরও ১ হাজার হেক্টর ধান

8

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও ১ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫০ হেক্টরে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলার প্রায় ৩৬ হাজার কৃষক।

রোববার (৩ মে) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকই পাকা ধান কাটতে পারছেন না। এছাড়া দিনভর রোদ না থাকায় ‘খলায়’ রাখা ধান শুকাতে না পেরে ধানে চারা গজানো ও পচন ধরার ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু ধান নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২ দশমিক ৭৩ মিটার, বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২ দশমিক ৪৫ মিটার, যা ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১ দশমিক ৮০ মিটারে নেমেছে।

পাউবো জানিয়েছে, সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। রোদ না থাকায় খলায় রাখা ধান শুকাতে না পেড়ে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছেন। বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here