Monday, May 18, 2026
spot_img
Home কিশোরগঞ্জ জলাবদ্ধতায় তাড়াইলের দামিহা মধ্যপাড়া দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার

জলাবদ্ধতায় তাড়াইলের দামিহা মধ্যপাড়া দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার

13
media image
ছবি

আলী হায়দার : কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা মধ্যপাড়া জামে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকার আশপাশে ঘরবাড়ি নির্মাণের সময় অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট করায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জমে থাকছে বসতবাড়ি ও মসজিদের আশপাশে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জলাবদ্ধতা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়ে গেছে।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম, আলমগীর, আবু বাক্কার, জুলহাস, আদু মিয়া, হালান মিয়া ও মাসুম মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে আছে। ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। সাপসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের ভয়ও বাড়ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন মসজিদগামী মুসল্লি ও মক্তবের শিক্ষার্থীরা। দামিহা মধ্যপাড়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম গণমাধ্যমকে বলেন, “পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিরা ঠিকমতো মসজিদে আসতে পারছেন না। মক্তবের শিক্ষার্থীদেরও চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমরা দ্রুত সমাধান চাই।”

এ বিষয়ে দামিহা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বিল্লাল মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, “জলাবদ্ধতার কারণে শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হোক। তা না হলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে এবং দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here