
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে রোপণ করা প্রকাশ্যে বেড়িবাঁধের ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চুরির মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে; অভিযোগের জেরে উপজেলা বিএনপির সভাপতির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
স্থানীয়দের দাবি, দিনের আলোতে প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছগুলো কেটে নেওয়া হলেও মামলায় ‘চুরি’র অভিযোগ আনা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনা ও মূল হোতাদের আড়াল করার কৌশল হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
মিটামই উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বলেন, “ ঘটনার পর একটি স-মিলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঙ্গুর মিয়া নামের এক ব্যক্তি গাছগুলো সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। সে কারণেই তাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।”
তবে প্রকাশ্যে গাছ কাটার পরও কেন চুরির মামলা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের; জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসবে কার নির্দেশে এ কাজ হয়েছে।
এ ঘটনার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সাংগঠনিক সকল পদ স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ সদস্য থাকাকালে নদীভাঙন রোধে ওই বেড়িবাঁধে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে গাছগুলো পরিবেশ রক্ষা ও বাঁধ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে যাতায়াতের জন্য বাঁধের ওপর দিয়ে যেতে হয়। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে গাছ কাটা শুরু হয়। সবশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১০-১২টি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছ কেটে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, “ আমি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত নই। গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি নয়; যে যার জায়গা থেকে গাছ কেটেছেন। বেড়িবাঁধও সরকারি বা অধিগ্রহণকৃত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। তবে পরিবেশ সুরক্ষা, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নে এ ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

