
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রী ও এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে কটিয়াদী পৌরসভা এলাকায় এক নারীর বসতঘরে ঢুকে পড়ে একদল লোক। তারা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয় এবং পাশের রুমে অবস্থানকারী ওই নারীর পূর্বপরিচিত এক যুবককে ডেকে এনে দুজনকেই মারধর করে। পরদিন সকালে তাদের বাড়ির সামনের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে আবারও নির্মমভাবে পেটানো হয়।
পরদিন, ২১ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের একাধিক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যা জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান (৬৫) নামে এক ব্যক্তি বাঁশের কঞ্চি দিয়ে এক নারী ও এক যুবককে পেটাচ্ছেন। এ সময় স্থানীয়দের কেউ কেউ মারধর করতে নিষেধ করলেও তিনি থামেননি। অন্য এক ভিডিওতে কুলসুম আক্তার নামে এক নারীকেও একইভাবে কঞ্চি দিয়ে নির্যাতন করতে দেখা যায়।
নির্যাতনের শিকার নারী বর্তমানে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার।
ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, হামলার সময় পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটানো হয় এবং পরবর্তীতে সামাজিকভাবে হেয় করতে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার নারী নিজেই ৬ জনকে আসামি করে কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে বোরহান উদ্দিন ও কুলসুম আক্তার নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মামলার পরপরই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভুক্তভোগী নারীর খালাতো ভাই হাবিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার যুবকের পরিবার বলেছে, কোনো অপরাধ থাকলে বিচার হওয়া উচিত ছিল আইনের মাধ্যমে। কিন্তু তারা মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত তুলে অন্যায় করেছে।
প্রসঙ্গত, ১০ বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয় কটিয়াদী পৌর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। চার বছর আগে তার স্বামী সৌদি আরবে পাড়ি জমান। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, পরে ওই নারীর সঙ্গে চারিয়া গ্রামের এক যুবকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবিতে স্থানীয় মহল থেকে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

